শ্রী রাম – ভগবান রামচন্দ্র । jai shree ram

শ্রী রাম – ভগবান রামচন্দ্র

শ্রী রাম, হিন্দু ধর্মের একমাত্র ভগবান ভিষ্ণুর সাতম অবতারের একটি, হলেন। তিনি রামায়ণ কাব্যের মূল চরিত্র। রামায়ণ, ভারতীয় কথাসাহিত্যে একটি মহাকাব্য, ভাগবতপুরাণে ও অন্যান্য ধার্মিক গ্রন্থে প্রশংসিত হয়েছে।

শ্রী রামের জীবন ও চরিত্রে বিশেষ কিছু তথ্য:

1. **জন্ম ও বাল্যকাল:**

শ্রী রামের জন্ম ত্রিদশ তারিখে আয়োধ্যা নগরে হয়। তার পিতা দশরথ রাজা এবং মাতা কৌসল্যা। রাম বাল্যকালে এক মহোন্নত বৃদ্ধাশ্রমে রহিতেন এবং গুরুকুলে অধ্যয়ন করতেন।

2. **বিবাহ ও অযাচন:**

রামের বাল্যকালের অবধি অযাচন নামক এক দানের করণে সীতা দেবীর সঙ্গে বিবাহ হয়। এরপর রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, এবং ভরত সহ অপরাজিত নামক একটি দণ্ডযাত্রায় নেমে আয়ন্ধ্রদেশে যায়।

3. **বনবাস ও রাক্ষসদহন:**

রাম পত্নী সীতা দেবী এবং ভাইয়া লক্ষ্মণ সহ বানবাসে যায়। বানবাসের সময়ে সীতা দেবী রাবণ নামক রাক্ষস দ্বারা হোয়া যায়। রাম ও লক্ষ্মণ এসে রাবণকে পরাজিত করে সীতা দেবীকে উদ্ধার করেন।

4. **রাজভবনে ফিরে আসা ও দশগ্রীব বধ:**

বানবাসের পর রাম সীতা দেবী ও লক্ষ্মণ সহ অযোধ্যায় ফিরে এসে রাজভবনে রাজপদে স্থাপন করেন। এই সময়ে রাবণের দশগ্রীব নামক রাক্ষস রাজভবন হানায় এবং সোনকি দেবীর সাথে বিবাহ হয়।

5. **রাজত্ব ও পত্নী ত্যাগ:**

রাম অযোধ্যায় রাজত্বে আসেন এবং সম্বাদ নামক একটি ঘটনায় রাজকীয় প্রতিরোধ হানায়। প্রস্তুতির মধ্যে সীতা দেবীকে পুনঃ ত্যাগ করে দেন।

6. **শ্রীরামের সমাপন:**

শ্রী রাম দ্বাদশ বর্ষ বনবাস ও একাদশ বর্ষ অযোধ্যায় রাজত্ব করেন

। এরপর সম্পূর্ণ জীবন দু:খ মুক্ত হয়। তিনি নিজেকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে অভিহিত করেন এবং তার বিশ্বাসীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা জানান।

রামের জীবনচরিত্রটি রামায়ণে বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে এবং এটি ভারতীয় সাহিত্যে একটি অমূল্য ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ হিসেবে পূজা হয়।

ভূমিকা:

শ্রী রামচন্দ্র, হিন্দু ধর্মের একটি অমূল্য রত্ন, বিশেষভাবে ভগবান বিষ্ণুর এক অবতার। রামের কাহিনী মহাভারতে প্রথম এবং প্রশ্নভূত একটি মহাকাব্যে, রামায়ণে উল্লেখিত হয়েছে। রামের জীবন এবং উদ্দীপনা সাধন করেছে অসংখ্য ব্যক্তির মানসিক এবং আধ্যাত্মিক জীবনে।

জীবনকাহিনী:

শ্রী রামচন্দ্রের জীবনকাহিনী রামায়ণে বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। রাম, দশরথ রাজা এবং কৌসল্যা রানীর ছেলে, আয়োধ্যা নামক রাজধানীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার জীবনের অমর কাহিনীতে, তিনি সত্য, ধর্ম, এবং নৈতিক মূল্যের প্রতি অকপট নিজেকে প্রতিষ্ঠান করেন।

রামের পতিতা সীতা রানী হতে তাকে ধার্মিক এবং সাহসী বিদ্যার্থিনী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। রামের চরিত্র এবং তার প্রেমের গল্প পৃথিবীতে আত্মবিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা উত্পন্ন করেছে।

ধর্ম এবং নৈতিকতা:

রামের জীবন একটি শিক্ষামূলক দৃষ্টান্ত, যা ধর্ম, নৈতিকতা, এবং আদর্শ জীবনের মডেল হিসেবে বিশেষভাবে বিকশিত হয়েছে। রামের চরিত্রে সঠিকতা, বিনম্রতা, এবং প্রেমের গুণগুলি উল্লেখযোগ্য রয়েছে। তার নৈতিক আদর্শ এবং শীল মানুষকে আত্মনির্ভর এবং সমৃদ্ধির দিকে নির্দেশ করে।

পূজা এবং মন্ত্র:

শ্রী রামের পূজা হিন্দু ধর্মে ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। শ্রদ্ধাভক্তদের মাঝে রামনাম সংকীর্তন একটি অত্যন্ত প্রিয় মাধ্যম, যা ভগবান রামের নামকে অনুসরণ করে শান্তি এবং ভগবত্প্রাপ্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। শ্রী রামের পূজা হলো বিশেষভাবে বাঙালি জনগণের মধ্যে প্রিয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

রাম নবমী কি ? what is Ram Navami ?

“রাম নবমী” বাঙালি ভাষায় লেখা হয় “রাম নবমী”.

রাম নবমী হলো একটি হিন্দু উৎসব, যা ভগবান বিষ্ণুর সাতম অবতার, শ্রী রামের জন্মদিন প্রস্তুতি করে। এটি হিন্দু পঞ্জিকায় চৈত্র মাসের নবমী তারিখে প্রচলিত হয়, যা সাধারিতভাবে গ্রীগোরিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ বা এপ্রিলে অনুসারিত হয়।

এই শুভ দিনে, ভক্তরা উপবাস করে, প্রার্থনা অংশ নেয়, রামায়ণ পড়ে এবং শ্রী রামের নিকট মন্নাত প্রদান করে।

এই উৎসবটি আধ্যাত্মিক ক্রিয়া, ভজন (ভক্তিমূলক গান), এবং রাম কথা (শ্রী রামের জীবন সম্পর্কিত গল্প) দ্বারা চিহ্নিত হয়। ভক্তরা শ্রী রামের মহিমা ও ধর্মিক জীবনের জন্য তাঁর আশীর্বাদ চায়। রাম নবমী ভারতে এবং বিশ্বভরে হিন্দুদের মধ্যে উদ্বুদ্ধ ভাবে উৎসব করা হয়।

ভগবানশ্রী রাম কে পুরুষোত্তম কেন বলা হয়েছিল? (Why was Sri Ram called )

“পুরুষোত্তম কেন বলা হয়েছিল?” এই প্রশ্নের অনুবাদ করে বাংলায় হলো “Why was Sri Ram called পুরুষোত্তম?”

এই প্রশ্নটি শ্রী রামচন্দ্র কে ভগবানের সর্বোত্তম বা পুরুষোত্তম হিসেবে কেন বলা হয়েছিল তার উপর ভিত্তি করে। “পুরুষোত্তম” হলো একটি সংস্কৃত শব্দ, যা “সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ” বা “সর্বোত্তম মানব” এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। হিন্দু ধর্মে শ্রী রামচন্দ্র কে অত্যন্ত ধার্মিক এবং নৈতিক আদর্শ হিসেবে মন্নায় হয়েছে, এবং তিনি হিন্দু ধর্মের অবতারের এক হিসেবে পূজা হয়।

এই প্রশ্নে বোঝানো হয়েছে যে, “পুরুষোত্তম” হচ্ছে “Supreme Person” বা “শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি”, এবং এটি কেন এমন বলা হয়েছিল তার উপর ভিত্তি করে এই প্রশ্ন করা হয়েছে।

এটি সংস্কৃত ধর্মে প্রচলিত একটি ধার্মিক ধারণা, যেখানে “পুরুষোত্তম” বা “শ্রেষ্ঠ পুরুষ” হলো দিব্য ব্যক্তির একটি অবতার, অনুষ্ঠানগত শ্রদ্ধার বিষয়ে। “শ্রী রাম” হচ্ছে হিন্দু ধর্মের অবতারমূলক এক দিব্য ব্যক্তি, যার চরিত্রটি “রামায়ণ” নামক পুরাণে বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে। তাই, “পুরুষোত্তম” হওয়ার কারণ হিন্দু ধর্মের অনুষ্ঠানিক এবং ধার্মিক বিশ্বাসের মধ্যে দেখা হয়।

শ্রী রাম ব্রত

পরিচয়:

শ্রী রাম ব্রত হলো একটি ধার্মিক অনুষ্ঠান যা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা প্রতি বছরে চৈত্র মাসে, সাধারণভাবে শনিবারে, অথবা শনিবারের একটি পটে অনুষ্ঠান করে। এই ব্রতে ভগবান শ্রীরামের উপাসনা এবং নৈতিক আদর্শের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীলতা প্রকাশ করা হয়।

ব্রতের পদ্ধতি:

শ্রী রাম ব্রতের পরিধি এক বা তারা বছরে একবার হয়। এটি সাধারণভাবে চৈত্র মাসের প্রথম শনিবার বা প্রথম বছরের শনিবারে অনুষ্ঠিত হয়। ব্রতে থাকার সময়ে ভক্তরা শ্রী রামের মন্ত্র জাপ করে, রামায়ণ শ্রাবণ করে এবং শ্রী রামের চরিত্রের কথা অনুসরণ করে। কেউ এক প্রকারে বা বিভিন্ন পণ্যের ব্রত সম্পন্ন করতে পারে। ব্রতের পর একাধিক ব্রাহ্মণকে ভিক্ষাটি দান করা হয়।

প্রসাদ:

ব্রতের পর ভক্তরা শ্রী রামের প্রতি ভক্তি এবং শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে এবং পূজায় ব্রাহ্মণদেরকে ভিক্ষা দান করে। এরপরে প্রসাদ হিসেবে বিভিন্ন ভোজ্য খাদ্য সর্বাঞ্চন করা হয়।

মন্ত্র:

ব্রতের সময়ে ভক্তরা শ্রী রামের মন্ত্র জাপ করতে পারে, যা হলো:

“শ্রী রাম জয় রাম জয় রাম”

সমাপ্তি:

শ্রী রামচন্দ্রের জীবন এবং তার শিক্ষামূলক কথা বোঝায় যে ধর্মের সত্য এবং ন্যায়ের পথে চলতে হলে, সত্যের অনুসরণ করতে হবে এবং ধর্মপ্রাণের কথা মানতে হবে। তার জীবনকথা একটি অমূল্য শিক্ষা, শাস্ত্রীয় সত্য এবং ভগবানের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা দেয়।

শ্রী রাম জীবন এবং তার আদর্শগুলি মানবজীবনে একটি আলোকচিত্র সৃষ্টি করে এবং তার পূজা এবং উপাসনায় ভক্তিদের মধ্যে এক অদভুত আত্মবিশ্বাস ও শান্তি উৎপন্ন করে।

Leave a Comment